সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বদলি ও পদায়নে তদবির, অস্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক প্রভাব দূর করতে আধুনিক অটোমেশন পদ্ধতি চালু করেছে সরকার। এ পদ্ধতির আওতায় প্রথম পর্যায়ে স্বাস্থ্য ক্যাডারের ৯৫ জন জুনিয়র কনসালট্যান্টকে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ায় পদায়ন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সচিবালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে পুরো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অটোমেশন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া পাঁচ বছরের বেশি বয়সী শিশুদেরও হামের টিকার আওতায় আনার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসকদের চাকরির মেয়াদ, অর্জিত ডিগ্রি, নিজ বাড়ির অবস্থান এবং ব্যক্তিগত পছন্দের ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট ম্যাট্রিক্স ও অ্যালগরিদম তৈরি করে পদায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে চিকিৎসকদের পদায়ন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের বদলি-বাণিজ্য ও তদবির সংস্কৃতি বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, স্বাস্থ্য খাতে বদলি ও পদায়ন প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে পারে। তবে এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ নীতিমালা, সঠিক তথ্যের ব্যবহার এবং প্রক্রিয়াটির যথাযথ তদারকি গুরুত্বপূর্ণ।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, আগের বছরের তুলনায় ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমেছে।
স্বাস্থ্য খাতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা, চিকিৎসকদের পদায়নে ব্যক্তিগত তদবিরের নির্ভরতা কমানো এবং জনস্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে অটোমেশন পদ্ধতির এই উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন