লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে স্বামী ও তার স্বজনরা পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামে স্বামীর বাড়ির উঠান থেকে আফরোজা বেগম (১৮) নামে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী এবং চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার গাজীপুরের কোনাবাড়ির একটি ভাড়া বাসায় আফরোজার মৃত্যু হয়। পরে সোমবার সকালে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ নিথক গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, একটি অচেনা গাড়ি থেকে আফরোজার মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে নামিয়ে রেখেই দ্রুত চলে যান দীন ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা।
নিহতের স্বজনরা জানান, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তারা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। স্বজনদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক কলহ চলছিল এবং আফরোজাকে প্রায়ই শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, শনিবার রাতে আফরোজা তার বাবাকে ফোন করে নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাকে হয়তো আর জীবিত পাওয়া যাবে না। এর কিছুক্ষণ পর ফোনটি কেটে যায়।
শাপলার দাবি, পরে দীন ইসলাম তার শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং হাসপাতালে নেওয়ার জন্য টাকা প্রয়োজন। টাকা পাঠাতে দেরি হলে পরে জানানো হয়, আফরোজা মারা গেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, মরদেহের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিচার দাবি করেছেন।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সিদ্দিক জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে।
তিনি বলেন, মরদেহের সঙ্গে ঢাকা উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের একটি কাগজপত্র পাওয়া গেছে, যেখানে বিষপানে মৃত্যুর কথা উল্লেখ রয়েছে। তবে নিহতের স্বজনরা মরদেহে আঘাতের চিহ্ন থাকার দাবি করেছেন।
ওসি আরও জানান, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন