দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী তামান্না ভাটিয়া নৃত্যশিল্পী হিসেবেও বেশ পরিচিত। বিভিন্ন সিনেমার আইটেম গানে তার নাচ দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০২৪ সালে ‘স্ত্রী ২’ সিনেমার ‘আজ কি রাত’ গানে নেচে ব্যাপক আলোচনায় আসেন এই অভিনেত্রী। ইউটিউবে গানটির ভিউ ইতোমধ্যে ১ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে।
গানটি মুক্তির প্রায় দুই বছর পরও এর জনপ্রিয়তা কমেনি। ‘আজ কি রাত’ গানের কোরিওগ্রাফি করেছেন বিজয় গাঙ্গুলি। এই কাজের জন্য তিনি ‘সেরা কোরিওগ্রাফি’ বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন।
হিন্দুস্তান টাইমস সিটিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গানটির সাফল্য নিয়ে কথা বলেছেন বিজয় গাঙ্গুলি।
তিনি বলেন, কোনো গানের কোরিওগ্রাফি করার সময় তারা চান কাজটি যেন সর্বোচ্চসংখ্যক দর্শকের কাছে পৌঁছায়। তবে প্রতিটি গানের নিজস্ব ভাগ্য রয়েছে। ভালো কাজ করার পরও অনেক সময় গান সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায় কিংবা দর্শকদের কাছে পৌঁছায় না।
বিজয় জানান, ‘ছাবা’ সিনেমায় ভিকি কৌশলকে নিয়ে একটি গানের শুটিং করেছিলেন তারা। তবে সম্পাদনার সময় গানটি সিনেমা থেকে বাদ পড়ে যায়।
‘আজ কি রাত’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গানটির কাজ ভালো হয়েছে—এটা তারা বুঝতে পেরেছিলেন। কিন্তু গানটি এত মানুষের সঙ্গে এভাবে যুক্ত হয়ে যাবে, তা তারা ভাবেননি। নিজেদের কাজটি ভালোভাবে করার পাশাপাশি দর্শক গানটি গ্রহণ করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা ছিল তাদের।
তামান্নার পারফরম্যান্সই বড় ভূমিকা রেখেছে
‘আজ কি রাত’ গানের সাফল্যের পেছনে তামান্না ভাটিয়ার পারফরম্যান্সকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিজয় গাঙ্গুলি।
তার ভাষায়, দর্শক শেষ পর্যন্ত পর্দায় অভিনয়শিল্পীর পারফরম্যান্সই দেখেন। তামান্না যেভাবে গানটিতে পারফর্ম করেছেন, তা না হলে গানটি এতটা জনপ্রিয় হতো না। তার মতে, গানটির সাফল্যের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব তামান্নার।
গানটির কথা লিখেছেন অমিতাভ বচ্চন। সংগীত পরিচালনা করেছেন শচীন-জিগার। গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মধুবন্তী বাগচী, দিব্যা কুমার ও শচীন-জিগার।
বিজয়ের মতে, গানটির অডিওও এর জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ। শিশু থেকে বয়স্ক—সব বয়সী শ্রোতাই গানটির সঙ্গে সহজে সংযোগ তৈরি করতে পেরেছেন। পাশাপাশি প্রাণবন্ত সংগীতকে দৃশ্যমানভাবে তুলে ধরতে কোরিওগ্রাফিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পরিবারে তৃতীয় জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার
বিজয় গাঙ্গুলির বাবা চলচ্চিত্র নির্মাতা অনিল গাঙ্গুলি দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। ১৯৭৫ সালে ‘কোরা কাগজ’ সিনেমার জন্য সেরা কাহিনি বিভাগে এবং ১৯৭৬ সালে ‘তপস্যা’ সিনেমার জন্য হিন্দি ভাষার সেরা ফিচার ফিল্ম বিভাগে পুরস্কার পান তিনি।
বিজয় বলেন, এবার তাদের পরিবারে তৃতীয় জাতীয় পুরস্কার এসেছে, তবে এটি তার নিজের প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। তিনি এটিকে দেশের সবচেয়ে বড় সম্মান হিসেবে উল্লেখ করেন।
তামান্নার হাতে একাধিক সিনেমা
তামান্না ভাটিয়া অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ‘ওডেলা ২’। গত বছরের ১৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়া তেলেগু ভাষার সিনেমাটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
বর্তমানে তামান্নার হাতে রয়েছে হিন্দি ভাষার পাঁচটি ও তামিল ভাষার একটি সিনেমা। এগুলো হলো—‘ভিভ্যান’, ‘ভি. শান্তারাম’, ‘রেঞ্জার’, ‘মারিয়া আইপিএস’, ‘রাগিনি থ্রি’ ও ‘পুরুষণ’।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন