সাবেক মেজর মো. সাদিকুল হককে খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই তারেকুর রহমান জানান, শুনানি শেষে আদালত সাদিককে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।
সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত মেজর সাদিককে ২০২৪ সালের ২৯ অক্টোবর সামরিক আদালত তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এরপর ভাটারা থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৯ জুন ওই মামলায় তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান।
তবে মুক্তি পাওয়ার আগেই গত ৭ আগস্ট বসুন্ধরা এলাকায় একটি ব্যক্তিগত গাড়ি পোড়ানোর মামলায় সাদিককে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন ভাটারা থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চাঁদ আলী।
ওই আবেদনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এবং ‘দেশকে অস্থিতিশীল করতে’ ওই গাড়ি পোড়ানোর ঘটনা ঘটানো হয়। তদন্তে এ ঘটনায় সাদিকের ‘প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে’ বলেও আবেদনে দাবি করা হয়।
গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি
ওই আবেদনের শুনানিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন আদালতে প্রশ্ন তোলেন, ঘটনার সময় সাদিক কারাগারে ছিলেন। সে অবস্থায় তিনি কীভাবে গাড়ি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িত হতে পারেন?
কারাগারে থাকা অবস্থায় কীভাবে সাদিক ওই মামলার ঘটনায় জড়িত হলেন, সে বিষয়ে ভাটারা থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে ব্যাখ্যা দিতে বলেন আদালত। পরে তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দেন।
ব্যাখ্যা পর্যালোচনা করে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম সাদিককে গাড়ি পোড়ানোর মামলায় গ্রেপ্তার না দেখানোর আদেশ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সাদিকের আইনজীবী এইচ এম আল-আমিন রোববার জানান, আর কোনো মামলায় আটকাদেশ না থাকায় তার মুক্তিতে বাধা নেই।
নতুন মামলায় আবার গ্রেপ্তার
এর পরপরই খিলক্ষেত থানার একটি মামলায় সাদিককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন এসআই মো. শাহজালাল। আদালত আসামির উপস্থিতিতে শুনানির জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার শুনানির সময় সাদিককে আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে খিলক্ষেত থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
যে অভিযোগে মামলা
মামলার বিবরণে বলা হয়, গত বছরের ১৭ মে দুপুর ২টার দিকে খিলক্ষেত বাজারসংলগ্ন এলাকায় ‘নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সময়’ সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ও সুনাম ক্ষুণ্ন এবং ঢাকা সেনানিবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ‘সহযোদ্ধা’ নামের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেন।
এ ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাসের সদর দপ্তর লজিস্টিকস এরিয়ার আজিজুল ইসলাম পরদিন খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন