রংপুর নগরীর দাসপাড়া (মাছুয়াপাড়া) এলাকায় তালাবদ্ধ একটি বাড়ি থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক, তার স্ত্রী, মেয়ে ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়িটির তালা ভেঙে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতরা হলেন—রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী (২৩) এবং ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী (১২)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল কাদের।
বৃহস্পতিবার থেকে পরিবারের মোবাইল ফোন বন্ধ
স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাদের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর রাত থেকে পরিবারের চারটি মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
শনিবার রাতে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় স্বজনরা দাসপাড়া এলাকায় ওই বাড়িতে গিয়ে দেখেন, প্রধান ফটকে তালা ঝুলছে এবং বাড়ির ভেতরের সব বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তালা ভেঙে বাড়িতে প্রবেশ করে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতদের পরিচয়
গণপতি চক্রবর্তী গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর রংপুর জিলা স্কুল থেকে অবসর নেন। অবসরের পর তিনি হোমিও চিকিৎসা করতেন বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।
তার মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী চলতি বছর রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
গণপতি চক্রবর্তীর ভাতিজি সোমা চক্রবর্তী জানান, বৃহস্পতিবার বিকেলেও তিনি তার কাকার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। শনিবার রাতে খবর পেয়ে বাড়িতে এসে পরিবারের চার সদস্যের মরদেহ দেখতে পান।
প্রীতিলতা চক্রবর্তীর ছোট বোন পূজা চক্রবর্তী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে তার বোনের সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছিল। এরপর থেকে পরিবারের চারটি মোবাইল ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়।
যেভাবে মরদেহগুলো উদ্ধার
রংপুর মহানগর সিআইডির ইনচার্জ সুবীর চৌধুরী জানান, চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মা ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। গণপতি চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় বাড়ির ছাদে। তার ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ পাওয়া যায় খাটের নিচে।
তদন্তে পুলিশ-সিআইডি-ডিবি
কোতোয়ালি থানার ওসি নাজমুল কাদের বলেন, পুলিশ, সিআইডি ও ডিবি ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। আপাতত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও জানা যায়নি।
সিআইডির কর্মকর্তা সুবীর চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের পর কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা জানা যাবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন