ঢাকা শহরের ৪১৬ বছর উদযাপন উপলক্ষে মতিঝিলের মধুমিতা সিনেমা হলে শুরু হয়েছে সাতদিনের চলচ্চিত্র উৎসব। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে আয়োজিত এ উৎসবে বাংলা চলচ্চিত্রের কালজয়ী ১৩টি সিনেমা বিনামূল্যে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন দর্শকরা।
শনিবার শুরু হওয়া এ উৎসব চলবে আগামী ২৮ আগস্ট পর্যন্ত। উদ্বোধনী দিনে সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হয় বাংলাদেশের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশ’।
যেসব সিনেমা দেখানো হচ্ছে
উৎসবের দ্বিতীয় দিন রোববার বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হয় ‘নবাব সিরাজউদ্দৌলা’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’।
সোমবার বিকেল ৩টায় থাকছে জহির রায়হানের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘জীবন থেকে নেয়া’। একই দিন সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘নান্টু ঘটক’।
চতুর্থ দিন ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেখানো হবে ‘অশিক্ষিত’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘রংবাজ’।
পঞ্চম দিনে বিকেল ৩টায় প্রদর্শিত হবে ‘সবুজ সাথী’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় ‘নাচের পুতুল’।
ষষ্ঠ দিন বিকেল ৩টায় রয়েছে ‘দূরদেশ’ এবং সন্ধ্যা ৬টায় প্রদর্শিত হবে ‘দহন’।
উৎসবের শেষ দিন ২৮ আগস্ট বিকেল ৩টায় দেখানো হবে ‘দোস্ত দুশমন’। সন্ধ্যা ৬টায় সমাপনী প্রদর্শনীতে থাকবে ‘বধূ বিদায়’।
কালজয়ী সিনেমায় দর্শকের আবেগ
চলচ্চিত্র উৎসব উপলক্ষে মধুমিতা হলের কর্ণধার ইফতেখার আহমেদ নওশাদ বলেন, নতুন সিনেমার অভাবে হল অনেক সময় বন্ধ থাকে। এ ধরনের উৎসবের মাধ্যমে হল সচল হওয়াটা ভালো লাগার বিষয়।
তিনি বলেন, এসব পুরোনো কালজয়ী সিনেমা যারা দেখে বড় হয়েছেন, তাঁদের জন্য উৎসবটি আবেগের জায়গা হতে পারে। পাশাপাশি বর্তমান সময়ের দর্শকদের আগ্রহ কেমন, সেটিও সন্ধ্যার প্রদর্শনীতে বোঝা যাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্রশিল্পের দুর্দিন কাটিয়ে তুলতে নতুন সিনেমা নির্মাণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। মধুমিতা হলের কর্ণধার বলেন, নতুন সিনেমা নির্মাণ না হলে সিনেমা হল টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। দুই ঈদ ছাড়া বর্তমানে নিয়মিত সিনেমা না থাকায় হল মালিকদের নানা সংকটের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে।
৫৮ শিল্পী-কুশলীকে সম্মাননা
শনিবার আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম, সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলা চলচ্চিত্রে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে প্রবীণ ও নবীন শিল্পী, পরিচালক, লেখক, সংগীতশিল্পী, গীতিকার, চিত্রগ্রাহকসহ মোট ৫৮ জন শিল্পী ও কুশলীকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন