মাঠে বল পায়ে দারুণ কারুকাজ দেখিয়েছেন, সতীর্থদের দিয়ে গোল করিয়েছেন, এমনকি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকেও একাই ব্যস্ত রেখেছেন নেইমার। তবে ব্রাজিলিয়ান সিরি আ-তে মিরাসোলের বিপক্ষে জয় পায়নি তাঁর দল সান্তোস। ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয়েছে লিগের অন্যতম সফল ক্লাবটিকে।
ম্যাচটিতে প্রথাগত ফরোয়ার্ডের চেয়ে প্লে-মেকার হিসেবেই বেশি উজ্জ্বল ছিলেন নেইমার। সান্তোসের একমাত্র গোলটির রূপকারও ছিলেন তিনি। তাঁর দেওয়া দারুণ এক অ্যাসিস্ট থেকেই গোলটি পায় সান্তোস।
পরিসংখ্যানেও নেইমারের দাপট ছিল স্পষ্ট। পুরো ম্যাচে তিনি ৬টি ‘কী পাস’ দিয়েছেন, যা মাঠের অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। তবে ৬টি ক্রসের মধ্যে মাত্র একটি সতীর্থের কাছে পৌঁছেছে।
৯০ মিনিটে নেইমারের পায়ে বল ছিল ৯৮ বার। প্রতিপক্ষের সীমানায় ৫৪টি পাসের মধ্যে ৪২টি সফলভাবে সম্পন্ন করেন তিনি। সব মিলিয়ে তাঁর পাসের সাফল্যের হার ছিল ৭৯ শতাংশ।
মাঝমাঠ থেকে বল নিয়ে আক্রমণে ওঠার দায়িত্বও ছিল নেইমারের ওপর। ম্যাচে মোট ৩৭ বার ড্রিবল করে ৩৩৮ মিটার পথ পাড়ি দেন তিনি। এর বড় অংশই ছিল প্রতিপক্ষের ডি-বক্সের দিকে।
গোলের জন্য নিজেও ছিলেন মরিয়া নেইমার। পুরো ম্যাচে ৭টি শট নেন তিনি, যার ৩টি ছিল লক্ষ্যে। তবে মিরাসোলের রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দৃঢ়তায় কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পাননি। তাঁর একটি শট প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে প্রতিহত হয়।
ম্যাচের শেষ দিকে লাল কার্ড দেখে একজন খেলোয়াড় মাঠ ছাড়ায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় মিরাসোল। দ্বিতীয়ার্ধের নির্ধারিত সময়ের পর আরও ৭ মিনিট যোগ করা হলেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয়সূচক গোল আদায় করতে পারেনি সান্তোস।
নেইমার ব্যক্তিগতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
ইনজুরি কাটিয়ে ফেরার পর চলতি মৌসুমে দারুণ ফর্মে আছেন ব্রাজিলিয়ান এই সুপারস্টার। এখন পর্যন্ত ১১ ম্যাচে তাঁর গোল ৬টি, পাশাপাশি ৩টি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। জনপ্রিয় ফুটবল অ্যাপ ‘সোফাস্কোর’-এ নেইমারের গড় রেটিং ৭.৬৫, যা লিগের অন্যতম সেরা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন