যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি সোনালি রঙের স্মার্টফোন, দাম ৪৯৯ ডলার—এমন ঘোষণা দিয়ে ২০২৫ সালে আলোচনায় আসে ‘ট্রাম্প মোবাইল’-এর টি১ ফোন। তবে এক বছরের বেশি সময় পেরিয়ে ফোনটির নকশা, স্পেসিফিকেশন, উৎপাদনস্থল এবং সরবরাহের সময় নিয়ে একাধিকবার পরিবর্তন এসেছে।
ফোনটির সরবরাহ শুরু হলেও এখনো সব ক্রেতা সেটি হাতে পাননি।
২০২৫ সালের ১৬ জুন ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ও এরিক ট্রাম্পের উপস্থিতিতে ‘ট্রাম্প মোবাইল’-এর ঘোষণা দেওয়া হয়। তখন ট্রাম্প অর্গানাইজেশন জানিয়েছিল, টি১ ফোনটি আগস্টে বাজারে আসবে এবং এটি ‘গর্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে নকশা ও তৈরি’ করা হবে। ফোনটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছিল ৪৯৯ ডলার।
শুরুতে ফোনটিতে ৬ দশমিক ৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ১২ জিবি র্যাম এবং ২৫৬ জিবি স্টোরেজ থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ওয়েবসাইটে ফোনটির বিভিন্ন তথ্য পরিবর্তন হতে থাকে।
একপর্যায়ে ডিসপ্লের আকার ৬ দশমিক ২৫ ইঞ্চি দেখানো হয় এবং ১২ জিবি র্যামের তথ্য সরিয়ে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ হওয়ার সরাসরি দাবিও বাদ দিয়ে ‘প্রাউডলি আমেরিকান’ ও ‘আমেরিকান মূল্যবোধ মাথায় রেখে নকশা করা’—এ ধরনের ভাষা ব্যবহার শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
পিছিয়েছে সরবরাহের সময়
ফোনটির সরবরাহের সময়ও কয়েক দফা পরিবর্তন করা হয়। শুরুতে আগস্টে ফোন সরবরাহের কথা থাকলেও পরে তা পিছিয়ে যায়। এর মধ্যেই ক্রেতাদের কাছ থেকে ১০০ ডলার করে প্রি-অর্ডার নেওয়া হচ্ছিল।
২০২৬ সালের এপ্রিলে ট্রাম্প মোবাইলের প্রি-অর্ডারের শর্তে জানানো হয়, অগ্রিম অর্থ জমা দিলেই ফোনটি উৎপাদিত হবে বা কেনার জন্য পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। এমনকি সম্ভাব্য সরবরাহের তারিখও বাধ্যতামূলক নয় বলে উল্লেখ করা হয়।
দীর্ঘ অপেক্ষার পর গত মে মাসে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, টি১ ফোনের সরবরাহ শুরু হয়েছে। তবে সরবরাহ ছিল সীমিত। প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যম দ্য ভার্জ জুনের শেষ দিকে জানায়, তারা দুটি ফোনের পুরো দাম পরিশোধ করেও তখনো সেটি হাতে পায়নি। পরে জুলাইয়ে তারা ফোনটি হাতে পেয়ে পর্যালোচনা প্রকাশ করে।
আসলে কোথায় তৈরি হচ্ছে টি১?
এরপর টি১ ফোনটি কতটা ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’—তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
প্রযুক্তিপণ্য মেরামত ও বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান iFixit জুনে একটি টি১ ফোন খুলে পরীক্ষা করে। তাদের বিশ্লেষণে ফোনটির অভ্যন্তরীণ নকশার সঙ্গে ২০২৪ সালে বাজারে আসা HTC U24 Pro-এর ব্যাপক মিল পাওয়া যায়।
এমনকি পরীক্ষা করা টি১ ফোনটির ব্যাটারিতে সেটি ফিলিপাইনে তৈরি বলে উল্লেখ ছিল।
বর্তমানে ট্রাম্প মোবাইলের ওয়েবসাইটে টি১ ফোনকে ‘প্রাউডলি আমেরিকান’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। তবে প্রথম ঘোষণার মতো সরাসরি ‘যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি’ কথাটি আর ব্যবহার করা হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী, ফোনটিতে আবার ৬ দশমিক ৭৮ ইঞ্চির অ্যামোলেড ডিসপ্লে, স্ন্যাপড্রাগন মোবাইল প্ল্যাটফর্ম এবং ৫ হাজার এমএএইচ ব্যাটারির কথা বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ২০২৫ সালের জুনে দ্রুত বাজারে আনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া টি১ ফোনটি এক বছরের ব্যবধানে বেশ কয়েকবার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। ফোনটির পরিচয়, স্পেসিফিকেশন, উৎপাদন নিয়ে দাবি এবং সরবরাহের সময়—সবকিছু নিয়েই এখন প্রশ্ন রয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন