রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাসের বন্ধু সীমান্ত দাস আদালতে সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক জিন্নাত আলী জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রংপুর মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় সীমান্তের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থের বন্ধু সীমান্ত। মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর তার বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে সোমবার সীমান্তের মা অসুস্থ থাকায় তিনি আদালতে আসতে পারেননি। মঙ্গলবার বাবার সঙ্গে আদালতে এসে জবানবন্দি দেন তিনি।
জিন্নাত আলীর ভাষ্য, হত্যাকাণ্ডের রাতে মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থ সীমান্তের বাড়িতে গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে আদালতে জানিয়েছেন সীমান্ত। সীমান্তের দেওয়া বক্তব্যের সঙ্গে আসামিদের দেওয়া জবানবন্দির বেশ কিছু তথ্যের মিল পাওয়া গেছে বলেও জানান তিনি।
এর আগে আসামিদের গ্রেপ্তারের পর সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের রাতে ওই দুই আসামি সীমান্তের বাসায় গিয়ে ইয়াবা সেবন করেছিলেন।
এদিকে গ্রেপ্তার দুই আসামির ডোপ টেস্টের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে বুধবার তাদের ডোপ টেস্টের জন্য পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর তদন্তের মাধ্যমে বের করার কথা জানিয়ে জিন্নাত আলী বলেন, এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে মানুষের মনে থাকা বিভিন্ন প্রশ্নের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে উত্তর খোঁজা হবে। মামলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
যেভাবে সামনে আসে হত্যাকাণ্ড
শনিবার রাতে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে জিলা স্কুলের সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছেলে প্রীয়ম চক্রবর্তী এবং স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী মেয়ে আগামী চক্রবর্তীর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে রংপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
পরদিন রোববার ভোরে মুগ্ধ দাস (২৩) ও সিদ্ধার্থ দাস (১৯) নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তারা নিহত পরিবারের বাড়ির আশপাশের এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়।
ওই দিন বিকেলেই তারা আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
প্রথমে মামলাটির তদন্তভার ছিল কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জির ওপর। পরে সোমবার মামলাটির তদন্তভার কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছ থেকে মহানগর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। এরপর ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলীকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন