চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাবিলাসদ্বীপ ইউনিয়নের পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে নানা সমস্যায় জর্জরিত। স্বাধীনতারও আগে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির দীর্ঘ সময়ে উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। এরই মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য স্থানীয় হিতৈষী অশ্বিনী কুমার বড়ুয়ার দান করা প্রায় ২ একর জমির বড় অংশ দখল-বেদখলের শিকার হয়েছে। বর্তমানে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের দখলে রয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ শতক জমি।
গত ২৫ আগস্ট চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম সরেজমিনে পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেদখল হওয়া জায়গা উদ্ধারে দখলদারদের বিরুদ্ধে নোটিশ জারির জন্য পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও সড়ক বিভাগের প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির ভবন ও আশপাশের পরিবেশ দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন কক্ষে বড় বড় উইপোকার আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। ব্রিক পিলার ও দেয়ালে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের ফাটল। স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রবেশের প্রায় ১২ ফুট প্রশস্ত রাস্তাটিও দখলের কারণে বর্তমানে প্রায় ৩ ফুটে নেমে এসেছে। ফলে রোগীদের রিকশা বা সিএনজি অটোরিকশায় করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসক, রোগী ও কর্মীদের জন্য কোনো শৌচাগার নেই। নেই বেসিন ও ওয়াশ ব্লকের ব্যবস্থাও। ফলে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে কেন্দ্রটির নিজস্ব অবকাঠামোগত সংকটই বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জানা গেছে, পাঁচুরিয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে একজন বিসিএস ক্যাডারের নিয়মিত মেডিকেল অফিসার পদায়নের কথা থাকলেও কর্মপরিবেশ অনুপযোগী হওয়ায় তিনি সপ্তাহে মাত্র দুই দিন দায়িত্ব পালন করেন। তার অধীনে একজন সাব-অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার (স্যাকমো), একজন মিডওয়াইফ, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন অফিস সহায়ক থাকার কথা। তবে বর্তমানে স্যাকমো ও মিডওয়াইফ—এই দুটি পদই শূন্য রয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক ও কর্মচারীরা মনে করেন, প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি ভবন সংস্কার ও দায়িত্ব পালনের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া সম্ভব হবে।
পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব জানান, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের অধীনে পরিচালিত হয়। স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় এটি বর্তমানে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান ভবনটি পাকিস্তান আমলের। ১৯৫৬ সালে নির্মিত ভবনটি তখন ‘রুরাল ডিসপেনসারি’ বা আরডি নামে পরিচিত ছিল। সে সময় থেকেই স্থানীয় মানুষ এখান থেকে স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে আসছেন। পরবর্তী সময়ে ভবনটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
ডা. আবু তৈয়ব আরও বলেন, পটিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। হাবিলাসদ্বীপের মতো এলাকায় থাকা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির এমন জরাজীর্ণ অবস্থা গ্রহণযোগ্য নয়। পটিয়ায় দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিদর্শনে এসে বিষয়টি সিভিল সার্জনকে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবনটি পুনর্নির্মাণের জন্য চট্টগ্রামের স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরকেও অবহিত করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি দখলের বিষয়টি উপজেলা সমন্বয় সভায়ও উত্থাপন করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে সংসদ সদস্য এনামুল হক এনাম বলেন, চিকিৎসকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি দেখতে এসেছেন। এখানকার অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও এখানে রোগীদের বসার মতো পরিবেশও নেই।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেদখল হওয়া জমি অবশ্যই উদ্ধার করতে হবে। সরকারি জমি কেউ দখল করে রাখতে পারবে না।
পরিদর্শনকালে পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব খোরশেদ আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য শফিকুল ইসলাম, পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক, উপজেলা বিএনপি নেতা মঈনুল আলম ছোটন, পটিয়া সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন