দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামসুজ্জোহা সরকার আসামিদের আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করেন।
এর আগে মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবা এস এম মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তাঁর প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলাম এবং মরিয়মের মামা মো. ওবায়দুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে মরিয়মকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তাঁর বাবার দাবি, বিয়ের পর থেকেই স্বামী গাজী নজরুল ইসলাম ও তাঁর প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে নির্যাতন করতেন। পরিবারের সদস্যদের কাছে মরিয়ম বিভিন্ন সময়ে এসব অভিযোগ জানিয়েছিলেন বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহার অনুযায়ী, গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাজী নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে তাঁর বাসায় যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি মরিয়মকে একটি কক্ষে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতে লেখা চিরকুট পাওয়া গেছে বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বিশ্বাসভঙ্গ ও মানসিক কষ্টের বিষয় উঠে এসেছে বলে বাদী দাবি করেছেন। তবে চিরকুটটির লেখক এবং এতে উল্লেখিত বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা হবে।
মরিয়মের বাবার অভিযোগ, তাঁর মামা ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় গাজী নজরুল ইসলামের সঙ্গে মরিয়মের বিয়ে হয়। পরে স্বামী ও তাঁর প্রথম স্ত্রীর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কারণে মরিয়ম আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছেন বলে তিনি মামলায় অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগ এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। পুলিশ মরিয়মের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও মামলায় আনা অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত চালাচ্ছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন