মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত একাধিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র প্রকাশ্যে এসেছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের হাতে আসা বেশ কিছু ছবিতে সৌদি আরব ও কুয়েতে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনা, যানবাহন ও ভবনের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে।
সিবিএস জানিয়েছে, সামরিক বাহিনীর কয়েকজন সদস্য পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ছবিগুলো সরবরাহ করেছেন। প্রকাশিত ছবিতে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে একটি বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি উড়োজাহাজের পেছনের অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখা যায়। বিমানটির লেজের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুয়েতের ক্যাম্প বুয়েরিংয়ের ছবিতে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ধ্বংসপ্রাপ্ত ট্রেইলার ও তাঁবু দেখা গেছে। একইভাবে ক্যাম্প আরিফজানে একটি চারতলা ভবনের ব্যাপক ক্ষতির চিত্রও প্রকাশ পেয়েছে।
সিবিএসের কাছে এক মার্কিন সামরিক সদস্য দাবি করেছেন, ঘাঁটিগুলোতে হওয়া বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি মার্কিন জনগণের সামনে পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি। তাঁর ভাষায়, সেনারা যেন ‘চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে ঘুষি খাচ্ছেন’।
পেন্টাগনের প্রতিবেদনেও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য
ছবি প্রকাশের সময়ের কাছাকাছি প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব, ইরাক, ওমান ও জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটির শত শত ভবন ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-তে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ৩৩৪০ কোটি ডলার। এর মধ্যে শুধু সামরিক সরঞ্জাম ও গোলাবারুদের ক্ষয়ক্ষতি ও ব্যয় উল্লেখযোগ্য অংশজুড়ে রয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেলের প্রতিবেদনে সরঞ্জাম ক্ষতির মূল্য প্রায় ৩৭০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোর স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সামরিক সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিবিএসের প্রতিবেদনে প্রায় ৬০টি উড়োজাহাজের ক্ষয়ক্ষতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুদ্ধের ব্যয় ও রাজনৈতিক চাপ
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরুর পর পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটি ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। কুয়েতে মার্চের একটি হামলায় ছয় মার্কিন সেনা নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে।
দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাতের আর্থিক ব্যয় নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনা বাড়ছে। মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট অফিসের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ইরান যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৩৮০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে এবং প্রতি মাসে আরও প্রায় ৩০০ কোটি ডলার ব্যয় হতে পারে।
এদিকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিত করার বিষয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে মঙ্গলবার রাতে নতুন করে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে। এটি যুদ্ধের অবসান ও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া প্রেসিডেন্টের সামরিক অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার পক্ষে প্রতিনিধি পরিষদের তৃতীয় দফার ভোট বলে সিবিএস জানিয়েছে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন