ইরান পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করছে না, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক গবেষণার অধিকার তেহরান ছাড়বে না বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি বলেন, পারমাণবিক জ্ঞান কেবল কয়েকটি দেশের একচেটিয়া অধিকার—ইরান তা মেনে নেয় না। তাঁর ভাষ্য, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি জ্বালানি, চিকিৎসা, খাদ্য নিরাপত্তা ও শিল্পোন্নয়নের মতো বেসামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য।
পেজেশকিয়ান বলেন, ‘পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তির ওপর কোনো সীমাবদ্ধতাও মেনে নেবে না ইরান।’ তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচির বিরোধের সমাধান যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং এমন একটি সমঝোতার মাধ্যমে হওয়া উচিত, যেখানে ইরানের কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ প্রকৃতি নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশ্বাসযোগ্য নিশ্চয়তা পাবে এবং ইরানের অধিকারও সুরক্ষিত থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমালোচনা
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধেও একাধিক অভিযোগ তোলেন পেজেশকিয়ান। তিনি দাবি করেন, ইরান আত্মরক্ষার জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহার করছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষামূলক অবস্থান নিলে সেটিকে সন্ত্রাসবাদ বা আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং ইসরায়েলের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। পেজেশকিয়ানের ভাষ্য, ইসরায়েলের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন না হলেও ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় পরিদর্শন করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও সতর্কবার্তা
নিজ দেশের জলসীমা ও হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচলের অধিকার নিয়েও কথা বলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, অন্যরা এই জলপথ থেকে সুবিধা নেবে, অথচ ইরান নিজের জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হবে—এটি তেহরান মেনে নেবে না।
পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেন, যুদ্ধের বিস্তার আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে না। তাঁর ভাষায়, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো দেশ এককভাবে নিরাপদ থাকতে পারবে না; হয় সবাই মিলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করতে হবে, নয়তো সবাইকে একসঙ্গে নিরাপত্তাহীনতার মুখোমুখি হতে হবে।
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাব
এর আগে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছিলেন। এর পরদিন পেজেশকিয়ান তাঁর ভাষণে ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেন এবং বলেন, চাপ ও হুমকি ইরানকে নতি স্বীকার করাবে না।
তবে একইসঙ্গে পেজেশকিয়ান কূটনীতি ও আলোচনার পথ খোলা রাখার কথাও বলেন। তিনি জানান, শক্তি প্রয়োগের ভাষা বাদ দিয়ে আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমে সমাধানে যেতে ইরান প্রস্তুত।
জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে পেজেশকিয়ান আরও বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির উদ্দেশ্য অস্ত্র তৈরি নয়। শান্তিপূর্ণ প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতির অধিকার বজায় রেখেই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমঝোতার পথ খুঁজতে চায় তেহরান।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন