গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অভিবাসীদের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধির বিরুদ্ধে আইনি লড়াই শুরু করেছে নিউইয়র্ক সিটি। বিতর্কিত এই নীতির বাস্তবায়ন ঠেকাতে নিউইয়র্কের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি শহর ও কাউন্টি ফেডারেল সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে ১০৮ পৃষ্ঠার মামলাটি করা হয়েছে। আগামী শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) নতুন বিধিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলায় নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি, ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং ‘পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট’।
নতুন বিধি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ডের আবেদন মূল্যায়নের সময় অভিবাসন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সুবিধা গ্রহণের ইতিহাস আরও বিস্তৃতভাবে যাচাই করতে পারবেন। পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সক্ষমতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও বিবেচনায় নেওয়া হবে।
মেয়র জোহরান মামদানি নতুন বিধিটিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, নীতিটির কারণে বৈধ কাগজপত্রধারী অভিবাসীরাও ভয় পেয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও খাদ্য সহায়তা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে পারেন। এতে শেষ পর্যন্ত পুরো নিউইয়র্কের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মামলায় বাদীপক্ষের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের দেওয়া ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে ‘পাবলিক চার্জ’-এর সংজ্ঞা অযৌক্তিকভাবে সম্প্রসারণ করেছে। তাদের দাবি, ঐতিহাসিকভাবে এই ধারণাটি মূলত সরকারি নগদ সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল।
নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভ ব্যাংকসও দাবি করেছেন, নতুন বিধিটি দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত আইনি কাঠামোকে উপেক্ষা করেছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, অভিবাসীরা যাতে করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হন, কংগ্রেসের সেই উদ্দেশ্য বাস্তবায়নেই নতুন বিধি প্রণয়ন করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে নীতিটির বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা করেছে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বাধীন জোট। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো যুক্ত রয়েছেন।
লেটিশিয়া জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা নেওয়ার কারণে পরিশ্রমী পরিবারগুলোকে বিতাড়নের ভয় দেখিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে দূরে রাখা উচিত নয়।
নতুন বিধি নিয়ে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন অভিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কমিউনিটি নেতাদের আশঙ্কা, অনেকে গ্রিন কার্ডের আবেদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার ভয়ে মেডিকেইড বা ফুড স্ট্যাম্পের মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গ্রহণ থেকেও বিরত থাকতে পারেন।
তবে নতুন নীতির অর্থ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রিন কার্ডের আবেদন বাতিল হয়ে যাবে—এমন নয়। আবেদনকারীর সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা রয়েছে।
নিউইয়র্কে ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত বিনামূল্যে, নিরাপদ ও গোপনীয় আইনি সহায়তার জন্য মেয়রের দপ্তরের হটলাইন ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ চালু রয়েছে। এছাড়া ৩১১ নম্বরে ফোন করে ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল’ বলেও সহায়তা নেওয়া যাবে।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন