২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের সর্বশেষ পাসপোর্ট সূচকে ভারতীয় পাসপোর্টের অবস্থান কিছুটা শক্তিশালী হলেও পাকিস্তানের অবস্থান আরও পিছিয়েছে। নতুন র্যাঙ্কিংয়ে ভারত ১৩২তম এবং পাকিস্তান ১৮৩তম অবস্থানে রয়েছে।
পাসপোর্ট রিপোর্টসের তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় পাসপোর্টের মোবিলিটি স্কোর ৭০। ভারতীয় নাগরিকরা ২৫টি দেশে ভিসামুক্ত, ৪০টি দেশে ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং পাঁচটি দেশে ইলেকট্রনিক ট্রাভেল অথরাইজেশন (ইটিএ) সুবিধায় প্রবেশ করতে পারেন। তবে ১২৮টি গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ভিসা নিতে হয়।
ভারতীয়দের জন্য ভিসামুক্ত গন্তব্যগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাঙ্গোলা, বার্বাডোস, ভুটান, ডমিনিকা, ফিজি, গাম্বিয়া, গ্রেনাডা, হাইতি, কাজাখস্তান, কিরিবাতি, ম্যাকাও, মালয়েশিয়া, মালদ্বীপ, মরিশাস, মাইক্রোনেশিয়া, নেপাল, ফিলিস্তিনি অঞ্চল, ফিলিপাইন, রুয়ান্ডা, সেনেগাল, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, থাইল্যান্ড, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো ও ভানুয়াতু।
গন্তব্যভেদে এসব দেশে ১৪ থেকে ১৮০ দিন পর্যন্ত অবস্থানের সুযোগ রয়েছে। ডমিনিকায় সর্বোচ্চ ১৮০ দিন, ফিজিতে ১২০ দিন এবং বার্বাডোস, গাম্বিয়া, গ্রেনাডা ও হাইতিতে ৯০ দিন পর্যন্ত থাকা যায়।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি পাসপোর্টের মোবিলিটি স্কোর ৪২। দেশটির নাগরিকরা নয়টি দেশে ভিসামুক্ত, ২৯টি দেশে ভিসা অন অ্যারাইভাল এবং চারটি দেশে ইটিএ সুবিধা পান। অর্থাৎ মোট ৪২টি গন্তব্যে তুলনামূলক সহজ প্রবেশের সুযোগ রয়েছে। তবে ১৫৬টি গন্তব্যে ভ্রমণের আগে ভিসা প্রয়োজন।
পাকিস্তানিদের জন্য ভিসামুক্ত নয়টি দেশ হলো বার্বাডোস, ডমিনিকা, গাম্বিয়া, হাইতি, মাইক্রোনেশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো এবং ভানুয়াতু।
গত কয়েক বছরে পাকিস্তানি পাসপোর্টের অবস্থানে বেশ ওঠানামা দেখা গেছে। ২০২৩ সালে দেশটির অবস্থান ছিল ১৮০তম, ২০২৪ সালে ১৭৫তম এবং ২০২৫ সালে ১৭৪তম। তবে ২০২৬ সালে নয় ধাপ পিছিয়ে ১৮৩তম অবস্থানে নেমেছে। পাকিস্তানের নিচে রয়েছে শুধু ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তান।
দেশটির মোবিলিটি স্কোরও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২০ সালে ৩৬ থেকে বেড়ে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে ৪৭ হলেও ২০২৫ সালে তা কমে ৪৪ এবং ২০২৬ সালে ৪২ হয়েছে।
এদিকে, র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পাসপোর্ট। দেশটির মোবিলিটি স্কোর ১৮২। এরপর সিঙ্গাপুর ১৭৫, স্পেন ও মালয়েশিয়া ১৭৪ এবং লুক্সেমবার্গ ১৭৩ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে।
পাসপোর্ট রিপোর্টসের মতে, মোবিলিটি স্কোরের মাধ্যমে ভিসামুক্ত, ভিসা অন অ্যারাইভাল বা ইটিএর মতো সহজ প্রবেশব্যবস্থায় কতটি গন্তব্যে যাওয়া যায়, তা পরিমাপ করা হয়। তবে বিভিন্ন পাসপোর্ট সূচকে র্যাঙ্কিং ভিন্ন হতে পারে, কারণ প্রতিটি সূচকের পদ্ধতি এবং ভিসা অন অ্যারাইভাল বা ইটিএ গণনার ধরন আলাদা।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন