ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ। তবে নির্বাচনের কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেননি তিনি। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া প্রথম ভাষণে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচনের উপযুক্ত সময় ভেনেজুয়েলার জনগণই নির্ধারণ করবে।
জাতিসংঘের মঞ্চে রদ্রিগেজ বলেন, ‘ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’ তার সরকার ইতোমধ্যে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করে নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
রদ্রিগেজ বলেন, নির্বাচনের সময় এলে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলো একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে প্রস্তুত থাকবে। তিনি ভেনেজুয়েলাকে অনিশ্চয়তা ও সংঘাতের সময় পেরিয়ে পূর্ণ গণতন্ত্রের দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেন।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে মার্কিন সামরিক অভিযানে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পর রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন। মাদুরোর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগে মামলা চলছে। রদ্রিগেজের জাতিসংঘ সফরই ২০১৮ সালে মাদুরোর নিউইয়র্ক সফরের পর কোনো ভেনেজুয়েলীয় রাষ্ট্রপ্রধানের প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
জাতিসংঘে ভাষণে রদ্রিগেজ চলতি বছরের বিভিন্ন ‘ধাক্কা’ কাটিয়ে ভেনেজুয়েলা আবার ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের মতপার্থক্য সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান।
এর আগে মঙ্গলবার রাতে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন রদ্রিগেজ। মাদুরোকে আটক করার পর এটিই ছিল তাদের প্রথম সরাসরি বৈঠক। বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ক জোরদার এবং জ্বালানি, খনিজ ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন কৌশলগত ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রদ্রিগেজ জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিপুল ঋণ পুনর্গঠনের বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে। একই সময়ে ওয়াশিংটন বলেছে, ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রক্রিয়ার শেষ ধাপে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা দেশটির বিশাল তেলসম্পদ নিয়ে একটি চুক্তি ঘোষণা করে। রদ্রিগেজের ভাষ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এবং তেলশিল্প আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখবে।
রদ্রিগেজ বলেন, ভেনেজুয়েলা কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ ছাড়াই একটি সার্বভৌম দেশ হিসেবে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করতে চায়। একই সঙ্গে জ্বালানি, নিরাপত্তা, আন্তদেশীয় অপরাধ দমন ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
তবে রদ্রিগেজের সরকারের রাজনৈতিক বৈধতা ও নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভিন্ন মত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের একজন মুখপাত্র বলেছেন, রদ্রিগেজের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের উদ্দেশ্য তার সরকারকে বৈধতা দেওয়া নয় এবং ওয়াশিংটনের কৌশল অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে রদ্রিগেজের জাতিসংঘে দেওয়া বক্তব্যে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও কবে সেই নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হয়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন