চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল লঞ্চঘাটে লঞ্চ থেকে পন্টুনে নামার সময় মেঘনা নদীতে পড়ে মো. রবিন হোসেন (৩৬) নামে এক যুবক নিখোঁজ হয়েছেন। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ রবিন শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি নারায়ণগঞ্জের দেওভোগ এলাকায় বাবা হায়দার আলী ও মা রোকেয়া বেগমের সঙ্গে থেকে চাকরি করতেন।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে চাঁদপুরগামী ‘মকবুল-২’ লঞ্চে ওঠেন রবিন। লঞ্চটি ষাটনল ঘাটে পৌঁছালে তিনি পন্টুনে নামেন। পরে বুঝতে পারেন, তার একটি ব্যাগ লঞ্চে রয়ে গেছে।
ব্যাগটি আনতে রবিন আবার লঞ্চে ওঠেন। ব্যাগ নিয়ে পন্টুনে নামার সময় লঞ্চটি ঘাট ছেড়ে দিতে শুরু করে। এ সময় পন্টুনে লাফ দিয়ে নামার চেষ্টা করলে তিনি মেঘনা নদীতে পড়ে যান। একই সঙ্গে তার ব্যাগটিও নদীতে পড়ে যায়।
খবর পেয়ে দুপুর ১২টার পর উদ্ধার অভিযান শুরু করে মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি, চাঁদপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) তিনটি দল। তবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়েও রবিনের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার খবর পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে ষাটনল লঞ্চঘাটে ছুটে আসেন রবিনের স্ত্রী নাসরিন আক্তার। তিনি সাড়ে চার বছরের মেয়েকে নিয়ে মতলব উত্তর উপজেলার নবীপুর গ্রামে বাবার বাড়িতে থাকেন।
ঘাটে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন নাসরিন। তিনি জানান, রবিন সাঁতার জানতেন। সম্প্রতি তার চাকরি হয়েছিল এবং স্ত্রী ও মেয়েকে নারায়ণগঞ্জে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন।
নাসরিন বলেন, দীর্ঘদিন রবিন বেকার থাকায় তিনি মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে থাকতেন। চাকরি হওয়ার পর রবিন নিয়মিত তাদের দেখতে আসতেন এবং মেয়ের জন্য দুধের বোতলসহ প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতেন।
মোহনপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মো. রুহুল আমিন বলেন, রবিন হোসেনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
তিনি আরও জানান, লঞ্চটির সুকানি মো. মনির হোসেন ও তার সহযোগী মো. সুমন মিয়াকে লঞ্চসহ আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন