চলন্ত গাড়িতে ফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে অনেকেরই বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা বা অস্বস্তি হয়। এই সমস্যা কমাতে গুগলের তৈরি ‘মোশন অ্যাসিস্ট’ সুবিধা এখন পিক্সেল ফোনের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমচালিত অন্যান্য ফোনেও ব্যবহার করা যাচ্ছে। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজের ফোনেও সুবিধাটি পাওয়া যাচ্ছে।
মোশন অ্যাসিস্ট চালু করলে ফোনের পর্দার কিনারায় ছোট ছোট বুদ্বুদের মতো চিহ্ন দেখা যায়। ফোনে থাকা বিভিন্ন মোশন সেন্সরের সাহায্যে গাড়ির গতিবিধি শনাক্ত করে এসব বুদ্বুদও সেই অনুযায়ী অবস্থান পরিবর্তন করে। গাড়ি বাঁক নিলে, গতি বাড়ালে কিংবা ব্রেক করলে পর্দার বুদ্বুদগুলোও একইভাবে নড়াচড়া করে।
গুগলের এই সুবিধার মূল উদ্দেশ্য হলো চলন্ত অবস্থায় ফোন ব্যবহারের সময় চোখ ও শরীর থেকে মস্তিষ্কে যাওয়া সংকেতের অসামঞ্জস্য কমানো। সাধারণত ফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকলে চোখ স্থির দৃশ্য দেখছে বলে মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায়। অন্যদিকে, ভেতরের কান গাড়ির গতি ও নড়াচড়া সম্পর্কে ভিন্ন সংকেত দেয়। এই দুই ধরনের সংকেতের মধ্যে অসামঞ্জস্য তৈরি হলে অনেকের মোশন সিকনেস বা গতিজনিত অসুস্থতার উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
মোশন অ্যাসিস্ট গাড়ির গতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পর্দার বুদ্বুদগুলো সরিয়ে এই অসামঞ্জস্য কমানোর চেষ্টা করে। ফলে গাড়ি, বাস বা ট্রেনে চলার সময় ফোন ব্যবহারে অস্বস্তি কমতে পারে।
পিক্সেল ছাড়িয়ে অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও
গত আগস্টের শেষ দিকে প্রথমে পিক্সেল ফোনে মোশন অ্যাসিস্ট চালু করে গুগল। পরে সেপ্টেম্বরের অ্যান্ড্রয়েড ফিচার ড্রপের অংশ হিসেবে অন্যান্য অ্যান্ড্রয়েড ফোনেও সুবিধাটি চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষক মিশাল রহমানের তথ্যমতে, অ্যান্ড্রয়েড ১৭ চালিত ফোনে এখন সাধারণভাবে মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহার করা যাচ্ছে। তবে বর্তমানে নির্দিষ্ট কিছু পিক্সেল ও স্যামসাং ফোনেই অ্যান্ড্রয়েড ১৭ পাওয়া যাচ্ছে। গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৮ সিরিজও এর মধ্যে রয়েছে।
মোশন অ্যাসিস্ট ব্যবহারের জন্য ফোনের পুরো অপারেটিং সিস্টেম নতুন করে হালনাগাদ করার প্রয়োজন নেই। গুগল প্লে সার্ভিসেসের মাধ্যমে সুবিধাটি সরবরাহ করা হচ্ছে। তাই ফোনে অ্যান্ড্রয়েড ১৭ থাকার পাশাপাশি গুগল প্লে সার্ভিসেসের সর্বশেষ সংস্করণ ইনস্টল থাকাও প্রয়োজন।
অ্যান্ড্রয়েড ১৭ হালনাগাদ করার পরও ফোনে মোশন অ্যাসিস্ট দেখা না গেলে একবার ফোনটি পুনরায় চালু করে দেখতে পারেন।
যেভাবে চালু করবেন
মোশন অ্যাসিস্ট চালু করতে প্রথমে ফোনের সেটিংস অপশনে যেতে হবে। এরপর নিজের প্রোফাইলে প্রবেশ করে অল সার্ভিসেস নির্বাচন করতে হবে। সেখান থেকে পারসোনাল অ্যান্ড ডিভাইস সেফটি অপশনে গেলে মোশন অ্যাসিস্ট চালুর সুবিধা পাওয়া যাবে।
পিক্সেল ফোনের ব্যবহারকারীরা চাইলে মোশন অ্যাসিস্টকে কুইক সেটিংস প্যানেলেও যুক্ত করতে পারবেন। এতে সেটিংস মেনুতে প্রবেশ না করেই দ্রুত সুবিধাটি চালু করা যাবে।
এ ছাড়া ফোন চলন্ত গাড়িতে রয়েছে—এমনটি শনাক্ত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মোশন অ্যাসিস্ট চালু করার ব্যবস্থাও করা যায়। প্রয়োজনে কুইক সেটিংসের নির্দিষ্ট টাইল ব্যবহার করেও এটি চালু করা সম্ভব।
বদলানো যাবে বাবলের রং ও আকৃতি
মোশন অ্যাসিস্টে পর্দায় দেখা বাবলের রং, আকৃতি ও স্বচ্ছতা পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। ব্যবহারকারীরা লাল, হলুদ, সবুজ, নীলসহ বিভিন্ন রঙের থিম থেকে পছন্দেরটি বেছে নিতে পারবেন। একই সঙ্গে বাবল কতটা স্বচ্ছ বা গাঢ় দেখাবে, সেটিও নির্ধারণ করা যাবে।
এ ছাড়া ‘র্যানডমাইজেশন’ সুবিধা চালু করলে কয়েক সেকেন্ড পরপর বাবলের রং ও আকৃতি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হবে। ফলে পর্দায় সব সময় একই ধরনের বুদ্বুদ দেখা যাবে না।
ধারণাটি নতুন নয়
গুগলের মোশন অ্যাসিস্টের ধারণাটি অবশ্য একেবারে নতুন নয়। ‘মোশন কিউস’ নামে এই সুবিধার প্রাথমিক সংস্করণের সন্ধান ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই অ্যান্ড্রয়েডের কোডে পাওয়া যায়। এরপর বেশ কয়েক মাস এটি অভ্যন্তরীণ পরীক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
সুবিধাটি চালু করতে দেরি হওয়ার পেছনে প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতাও ছিল। লকস্ক্রিন বা কুইক সেটিংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম অংশের ওপর বুদ্বুদ দেখানোর জন্য প্রাথমিক সংস্করণে প্রয়োজনীয় সিস্টেম অনুমতি পাওয়া যেত না। পরে গুগল সেই সীমাবদ্ধতা দূর করে। ফলে এখন ফোনের ইন্টারফেসজুড়েই মোশন অ্যাসিস্টের বুদ্বুদ দেখানো সম্ভব।
গুগলের মোশন অ্যাসিস্টের ধারণাটি অ্যাপলের ‘মোশন কিউস’ সুবিধার সঙ্গেও অনেকটা মিল রয়েছে। আইফোন ব্যবহারকারীরা আইওএস ১৮ থেকেই চলন্ত অবস্থায় ফোন ব্যবহারের সময় গতিজনিত অস্বস্তি কমাতে এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারছেন।
মন্তব্য (0)
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
আপনার মন্তব্য লিখুন